2014/10/31 at 9:56 AM
ধর্মান্তরিত প্রেমিকার অধিকার আদায়ের লড়াই

ধর্মান্তরিত প্রেমিকার অধিকার আদায়ের লড়াই

কলেজ জীবনে ঘটে যাওয়া দুরন্ত ভালোবাসার এক বিরল গল্পের নায়িকা সাবিহা রহমান। যার পূর্ব নাম শশী রাণী নাথ। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব কিসমত জাফরাবাদ গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের মেয়ে। সাবিহা স্থানীয় কলেজের ব্যবসায় শিক্ষার (স্নাতক) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

রনি নামের এক যুবককে ভালোবেসে ছেড়েছেন স্বজন, সংসার, সেই সঙ্গে নিজ ধর্মও। এত ত্যাগ স্বীকারের পরও তাদের ভালোবাসার মাঝে বেজে ওঠে বিষাদ আর ভাঙনের সুর। প্রেমিক রনির ব্যক্তিত্বের দুর্বলতার সুযোগে পরিবারও প্রত্যাখ্যান করতে চাচ্ছিল। কিন্তু ছাড়ার পাত্রী নন সাবিহা। তাই স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে নালিশ জানান তিনি। আর্তি জানান ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরিয়ে দেয়ার। অবশেষে তার ভালোবাসারই জয় হলো।

মহা ধুমধামে মিরসরাই উপজেলা অডিটরিয়ামে ২১ আগস্ট (বৃহষ্পতিবার) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিয়ের মাধ্যমে ভালোবাসার মানুষ রনির সংসারে জায়গা করে নিলেন সাবিহা। এ অনুষ্ঠানে সাবিহার পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকলেও অভিভাবক হিসেবে ছিলেন মিরসরাই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ পুরো উপজেলার জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ সুধিজনেরা।

মহাধুমধামে বিয়ে, রনির পরিবারে সাবিহা {focus_keyword} ধর্মান্তরিত প্রেমিকার অধিকার আদায়ের লড়াই marriage02
এর আগে, পাশের উপজেলা সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাছতর গ্রামের দিদারুল আলমের ছেলে সাদেকুর রহমান রনিকে ভালোবেসে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শশী রাণী নাথ। সেসময় ভালোবাসার টানে নিজের ধর্ম ত্যাগ করেন শশী। নাম নেন সাবিহা রহমান। ভালোবাসায় বিভোর হয়ে আজ থেকে তিনমাস আগে দু’জনে পাড়ি জমিয়েছিলেন অজানার উদ্দেশে।

গত মে মাসের কথা। ময়মনসিংহের একটি কাজী অফিসে ইসলাম ধর্মের রীতি মেনে রেজিস্ট্রি করে বিয়েও করেছিলেন তারা। কিন্তু ভালোবাসার সেই বিয়ে নির্বিঘ্ন হয়নি। পরিবারের বাধার মুখে সাবিহার হাত ছেড়ে দেন রনি। তবে হাল ছাড়েননি সাবিহা।

গত জুলাই মাসে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন আর সংসার-ধর্ম ত্যাগ করা সাবিহা ভালোবাসার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নামেন। কাছের মানুষকে ফিরে পেতে দ্বারস্থ হন স্থানীয় মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরীর কাছে। হৃদয়বান চেয়ারম্যান মেয়েটিকে আশ্রয় দিয়ে রনির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু কিছুতেই ছেলের ভালোবাসাকে মানছিলেন না রনির বাবা দিদারুল আলম। পরে একে একে দুই উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাবিহার ভালোবাসার অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অবশেষে পুত্রবধূ হিসেবে সাবিহাকে মেনে নিতে রাজি হন রনির বাবা ও পরিবারের লোকজন।

দীর্ঘ সংগ্রামের পর বৃহষ্পতিবার (২১ আগস্ট) বিরল এক ভালোবাসার নায়িকা সাবিহার বিয়ে হয় মহাধুমধাম আর হৈচৈ করে। আর বিয়ের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আজহারুল হক চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াছমিন শাহীন কাকলী, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শারফুদ্দিন কাশ্মীর, সাংবাদিক ও উপজেলার বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াছমিন শাহীন কাকলী ছেলের মা রাহেলা আক্তারের হাতে তুলে দেন নববধূ সাবিহাকে। এসময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘একটি মুসলিম পরিবারের বিয়ে অনুষ্ঠানে যা যা আয়োজন থাকে আমি এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় সবরকম আয়োজন করছি। যেন মেয়েটির মনে কোনো কষ্ট না থাকে।’

বিয়ের আসরে কনে সাবিহা ও বর রনি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আজ আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা লাভ করল। শত বাধা পেরিয়ে আমরা শুরু করলাম নতুন একটি জীবন। সংসার জীবনের শুরুতে সবার কাছে দোয়া চাই।

Fayshal Hasan liked this post

একটি কমেন্ট করুন Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × three =

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>