2014/12/19 at 4:21 AM
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি প্রবীণ তোগাড়িয়া দাবি করেছেন, ১৯৫১ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে যে সংখ্যালঘুরা ভারতে এসেছেন, তাদের ফিরে যেতে হবে। বাংলাদেশ তাদের না ফেরালে সামরিক অভিযানের হুমকিও দেন তিনি।

তোগাড়িয়া এমন সময় এ দাবি জানালেন যখন ভারতের সাবেক সেনা প্রধান এবং দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সফর করছেন।

ভি কে সিং শনিবার গণভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত এ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমাসহ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে ট্রানজিট ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের মধ্য দিয়ে ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন। এসময় ভি কে সিং আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় জাহাজের ত্রিপুরায় চাল নিতে দেয়ার অনুমতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। পণ্য পরিবহনের জন্য ভারত সরকার আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করবে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ওয়াটার প্রটোকল শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন ভারতের প্রতিমন্ত্রী। এটা নিয়ে আগামী নভেম্বরে দুই দেশের নৌ পরিবহন সচিব পর্যায়ে বৈঠক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ভারতের প্রতিমন্ত্রী বলেন,আমরা বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।

এদিকে, ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের শিল্পমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী গতকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্কের বন্ধন আরো সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত সরকার বিশেষ করে ত্রিপুরার ঐতিহাসিক ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম দু’টি দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো সুদৃঢ় হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ সংবাদ বিশ্লেষক জনাব সাদেক খান রেডিও তেহরানকে বলেন, এ পর্যন্ত যে সব বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে তা মূলত ভারতের সুবিধা আদায়ের ব্যাপার। প্রতিবেশীদের কিছু দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত এখনো এগিয়ে আসতে পারছে না।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাব ফরহাদ মজহার বলেন, ভারত আমাদের কাছ থেকে একতরফা সুবিধা চায়;যেটাকে বলা চলে এক প্রকার গোলামীর সম্পর্ক। প্রতিবেশী ছোট দেশগুলাকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বশ্যতার অধীনে রাখার খায়েশ থেকেই ভারতের আঞ্চলিক নীতি গড়ে উঠেছে যা আমাদের জন্য একটি বড় হুমকি।

তবে উভয় দেশের সুবিবেচক নাগরিকগণ আশা করেন পারস্পরিক ন্যায় ও সমতাভিত্তিক কার্যকর সহযোগিতা দিয়েই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ানো যেতে পারে। আর তা হলেই আন্তরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় বুকে বুকে কোলাকুলি হলেও তা জনগণের হৃদয় স্পর্শ করবে না।

একটি কমেন্ট করুন Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 + 19 =

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>